সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম বীর সেনানী, শহীদ বুদ্ধিজীবী আঃ কাদের মিয়ার স্মৃতি রক্ষায় নির্মিত একটি জনসেবামূলক স্থাপনা ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্তে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের মধ্যে গভীর ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। পূর্বের জরাজীর্ণ গোল ঘরটি আধুনিকায়নের নিমিত্তে ২০২২ সালে শাহজাদপুর থানা কম্পাউন্ডে শহীদ আঃ কাদের মিয়ার স্মরণে এবং তাঁর পরিবারের নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত ঘোলঘর ও ‘অভ্যর্থনা কক্ষ কাম সার্ভিস ডেলিভারি অফিস’টি সংস্কার করা হয়, বর্তমানে উচ্ছেদ করে নতুন ভবনের কার্যক্রম শুরু করেছেন জেলা পুলিশ সিরাজগঞ্জ।
স্মৃতির ওপর আঘাতের শঙ্কা:
৭১-এর রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মতে, এই স্থাপনাটি কেবল একটি কক্ষ নয়, এটি শাহজাদপুরের সাধারণ মানুষের জন্য সেবার এক আশ্রয়স্থল এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের মহান বীর শহীদ বুদ্ধিজীবীকে সন্মান ও শ্রদ্ধার প্রতীক। থানা চত্বরে আগত জনসাধারণের দুর্ভোগ কমাতে এবং শহীদ বুদ্ধিজীবীর নামফলক দেখে নতুন প্রজন্মের মধ্যে দেশপ্রেম জাগ্রত করতে এই কার্যালয়টি বিশেষ ভূমিকা পালন করে আসছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ পুলিশের প্রশাসনিক ভবন ও ব্যারাক নির্মাণের তালিকায় শাহজাদপুর থানা অন্তর্ভুক্ত হওয়ায়, এই স্মৃতি কক্ষটি ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এতে স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধারা মন্তব্য করেছেন যে, এ ধরনের সিদ্ধান্ত তাদের হৃদয়ে লালিত ‘৭১-এর স্মৃতিতে চরম আঘাতের শামিল।
আইনি ও প্রশাসনিক তৎপরতা:
শহীদ বুদ্ধিজীবী আঃ কাদের মিয়ার সন্তান ও পরিবারের সদস্যদের পক্ষে থেকে ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাটি রক্ষার জন্য ইতিমধ্যে পুলিশ সদর দপ্তরে আবেদন জানিয়েছেন। তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে গত ০১/০২/২০২৬ তারিখে সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের কাছে মতামত চেয়ে পত্র পাঠানো হয়েছে। তবে পরিবারের অভিযোগ, জেলা পর্যায় থেকে বিষয়টি যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই না করেই স্মৃতি স্মারকটি অপসারণের তৎপরতা চালানো হচ্ছে। এছাড়াও প্রস্তাবিত ভবন নির্মাণের জায়গার পাশেই পুরাতন থানা কম্পাউন্ডে পুরাতন স্থাপনা বিদ্যমান রয়েছে।
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া:
এ বিষয়ে শাহজাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জানান, “থানার আধুনিকায়নের জন্য নতুন ব্যারাক নির্মাণ জরুরি। অফিসিয়াল আদেশ পেয়েছি,
অত্র থানার বিল্ডিং নির্মাণ পরবর্তী এই সার্ভিস ডেলিভারির অভ্যর্থনা কক্ষের আদলে নতুন করে শহীদ বুদ্ধিজীবী বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কাদের মিয়ার নামে নামকরণ করা যেতে পারে।
পরিবারের আকুতি:
শহীদ পরিবার ও বীর মুক্তিযোদ্ধারা দাবি তুলেছেন যে, আধুনিক স্থাপত্যশৈলী ব্যবহার করে বিদ্যমান স্মৃতি কক্ষটিকে অক্ষুণ্ণ রেখেই যেন নতুন ভবনের নকশা বাস্তবায়ন করা হয়। জাতীয় বীরদের সম্মান অক্ষুণ্ণ রাখা এবং মুক্তিযুদ্ধের যথাযথ সম্মান প্রদর্শন সমুন্নত রাখতে সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা। সিরাজগঞ্জের সচেতন মহলের মতে, উন্নয়নের নামে বীর শহীদের স্মৃতিচিহ্ন মুছে ফেলা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
এই ঘরটি রক্ষা হলে ক্ষতি হবে না বরং অপেক্ষা-মুখী মানুষের সময় কাটানোর এক নিরাপদ আশ্রয়স্থল হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ জেলহক হোসেন,
নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ আলামিন হোসেন, বার্তা সম্পাদক: মাসুদ মোশাররফ
মোবাইল: 01712458580, 01643-119696
ঢাকা অফিস: ৪৩ নয়াপল্টন ২য় তলা(পল্টন থানার বিপরীতে) ঢাকা-১০০০।
Copyright © 2026 দৈনিক যমুনা সংবাদ. All rights reserved.