1. admin@dailyjamunasongbad.com : admin :
মহান মুক্তিযুদ্ধের একজন সাহসী পুলিশ কর্মকর্তা শহীদ বুদ্ধিজীবী আব্দুল কাদের মিয়া - দৈনিক যমুনা সংবাদ
মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৬:১৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
সংযুক্ত আরব আমিরাতে ভারতীয় প্রবাসী আনাস আবদুল লতিফের সফলতা গল্প তরুণদের মাদকমুক্ত রাখতে আইনের পাশাপাশি বিজ্ঞানভিত্তিক ও সমন্বিত প্রতিরোধের আহ্বান রামগতিতে হাজীদের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান ফিলিপাইনের মিন্দানাও দ্বীপের উপকূলে সংঘটিত ৭.৮ মাত্রার ভূমিকম্পে ৭৮ জনের প্রাণহনি দুর্গা নারায়নপুর পুটিয়া গ্রামে ১৬০০ ফুট পাকা রাস্তাবিহীন চলছে জনদুর্ভোগ সাতপুঠিয়া যুব সংগঠনের উদ্যোগে ঈদুল আযহা উপলক্ষে ঈদ উপহার বিতরণ বুড়িমারী স্থলবন্দরে টানা ৮ দিন বন্ধ আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম শ্রীপুরে পূর্ণ বেতনের দাবিতে পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলন,সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ পাটগ্রাম সীমান্তে ভারতীয় বিএসএফের খুঁটি স্থাপনের চেষ্টা, বাঁধা দিলো বিজিবি ‎ কুইন মারিয়া ওয়েল ফেয়ার ফাউন্ডেশন এর পক্ষ থেকে উপহার সামগ্রী বিতরণ

মহান মুক্তিযুদ্ধের একজন সাহসী পুলিশ কর্মকর্তা শহীদ বুদ্ধিজীবী আব্দুল কাদের মিয়া

মোঃ সিরাতুল মোস্তাকিম (গণমাধ্যম কর্মী)
  • প্রকাশিত : সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ১১৯ বার পঠিত

মহান মুক্তিযুদ্ধের সাহসী পুলিশ কর্মকর্তা
শহীদ বুদ্ধিজীবী আব্দুল কাদের মিয়া। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল কাদের মিয়া ছিলেন এক সাহসী ও দৃঢ়চেতা সংগঠক। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে তিনি মুক্তিকামী যুবকদের প্রশিক্ষণ দেন, থানার অস্ত্র তাদের হাতে তুলে দেন এবং নিজেও সক্রিয়ভাবে প্রতিরোধ যুদ্ধে অংশ নেন।

মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্নে ২৭ মার্চ দেবীগঞ্জ থানায় বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত পতাকা উত্তোলন করে তিনি ঘোষণা দেন- “এখন থেকে দেবীগঞ্জ স্বাধীন।” এরপর তিনি মুক্তিকামী যুবকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে থানার অস্ত্রশস্ত্র তাদের হাতে তুলে দেন এবং নিজেও সক্রিয়ভাবে প্রতিরোধ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য অস্ত্র সংগ্রহের জন্য তিনি সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের হলদিবাড়ি যান।

১৯৭১ সালের ৩১ মে পাকিস্তানি সেনাদের সঙ্গে প্রতিরোধ যোদ্ধাদের একটি সংঘর্ষে তিনি আহত হন। মুক্তিযোদ্ধারা ছত্রভঙ্গ হলে তিনি আহত অবস্থায় নিজের বাড়িতে ফিরে আসেন। তার আহত হয়ে বাড়ি ফেরার খবর পেয়ে পাকিস্তান-সমর্থক শান্তি কমিটির লোকজন পাকিস্তানি সেনাদের খবর দেয়। খবর পেয়ে ১ জুন সকালে সেনাবাহিনী তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে। পরে দেবীগঞ্জের ব্রুজেরডাঙ্গা এলাকায় তাকে হত্যা করে এবং লাশ মাটিচাপা দেয়। স্বাধীনতার পর সেখানে তাঁর জুতা, মোজা, আংটি এবং কলম পাওয়া যায়।

স্বাধীনতার পর ১৯৯৯ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার তাঁকে শহীদ বুদ্ধিজীবী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। তাঁর নামে দেবীগঞ্জে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পঞ্চগড় পুলিশ লাইনে একটি গ্রন্থাগার এবং একটি সড়কের নামকরণ করা হয়েছে।

শহীদ বুদ্ধিজীবী আব্দুল কাদের মিয়ার সাহস, ত্যাগ ও দেশপ্রেম আজও আমাদের প্রেরণা। তিনি শুধু একজন পুলিশ কর্মকর্তা নন- তিনি আমাদের স্বাধীনতার অমর স্মৃতি।

এ জাতীয় আরও খবর